১,২,৩,৪ ও ৫ বছরের বাচ্চার পায়খানা না হলে করণীয়?

বাচ্চাদের পায়খানা না হওয়ার সমস্যা
বাচ্চাদের পায়খানা না হলে কি করবেন?


মানবদেহের স্বাভাবিক একটি প্রক্রিয়া হল হজম প্রক্রিয়া বা ডাইজেস্টিং সিস্টেম। আমরা যা খাই তা প্রথমে ক্ষুদ্রান্ত্র থেকে পরিপাক হতে শুরু করে এবং বৃহদান্ত্রের মাধ্যমে পরিপাক হয়ে তা মল বা পায়খানা হয়ে আমাদের শরীর থেকে নির্গত হয়। বাচ্চা, শিশু, যুবক ও বৃদ্ধ সকলের ক্ষেত্রে হজম প্রক্রিয়া একইভাবে কাজ করে।

কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে বাচ্চাদের মধ্যে একটি কমন সমস্যা হলো ঠিকমত বাচ্চাদের পায়খানা না হওয়া। ১, ২ থেকে ৫ বছরের বাচ্চার মধ্যে পায়খানা না হওয়ার সমস্যা ব্যাপকভাবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে। 

এই পুরো আর্টিকেল জুড়ে আপনাদের ১,২,৩,৪ ও ৫ বছরের বাচ্চার পায়খানা না হওয়ার কারণ কি এবং ১,২,৩,৪ ও ৫ বছরের বাচ্চার পায়খানা না হলে করণীয় কি সেই সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চলেছি। গুরুত্বপূর্ণ এ সব তথ্য জানতে সম্পূর্ণ লেখাটি অবশ্যই পড়বেন।


বাচ্চাদের পায়খানা না হওয়ার কারণ?

বাচ্চাদের স্বাভাবিক পায়খানা না হওয়ার পেছনে অনেকগুলো কারণ থাকতে পারে তবে এর পিছনে মেজর কিছু কারণ নিচে তুলে ধরলাম। এই কারণগুলো ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন। হতে পারে আপনার বাচ্চার সাথে এরকমই কিছু সমস্যা হচ্ছে তাই সে পায়খানা না হওয়া সমস্যায় ভুগছে। 


১. ঠিকমত পানি পান না করা

ঠিকমতো পানি না পান করার কারণেই বেশিরভাগ বাচ্চাই এক থেকে পাঁচ বছর বয়সের মধ্যে পায়খানা না হয় সমস্যায় আক্রান্ত হয়। এই সময়ে বাচ্চারা খেতে চায় না তাদের জোর করে খাওয়াতে হয় আবার খাবার পড়ে স্বাভাবিকভাবেই বাচ্চারা ছুটোছুটি করতে থাকে তাদের ঠিকমত পানি পান করানো যায় না। 

এই ক্ষেত্রে মাকে বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে হবে যে তার বাচ্চা খাওয়ার পরে কিংবা অন্যান্য সময়ে সঠিকভাবে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করছে কি না। মূলত পানি পানি না করার কারণেই এই সমস্যা বাচ্চাদের মাঝে অধিক হারে লক্ষ্য করা যায়। 


২. প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন খাওয়া

প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন জাতীয় খাদ্য যেমন মুরগির মাংস, ডিম ইত্যাদি বাচ্চার পায়খানাকে গুটি কিংবা কষা করে। অধিক পরিমাণে এসব খাবার খাওয়ানোর ফলে অনেক দেরিতে পায়খানা হয় এবং পায়খানায় অনেক গন্ধ হয়। 

জোর করে বাচ্চাকে প্রচুর পরিমাণে আমিষ খাওয়ানো হয় এই ভেবে যে এটা তার সার্বিক উপকার করবে সাধন করবে। এটা ঠিক প্রোটিন অতি গুরুত্বপূর্ন খাদ্য উপাদান কিন্তু এর পাশাপাশি অন্যান্য খাদ্য উপাদান বাচ্চাকে নিয়মিত খাওয়াতে হবে এতে করে তার ডাইজেস্টিং সিস্টেম স্বাভাবিকভাবে কাজ করবে। 


৩. বাইরের জাঙ্ক ফুড খাওয়ানো

বাচ্চাকে কখনোই জাম ফুড বা বাইরের খাবার খাওয়ানোর অভ্যাস করবেন না, এটা তার জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। বাইরের মুখরোচক জাঙ্ক ফুড বাচ্চার খাবারের রুচি ও হজম শক্তি দুটোতেই ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। 

এছাড়া এসব খাবার পেটে গ্যাস তৈরি করে এবং এসিডিটি বাড়িয়ে দেয়। এসব খাবার বাচ্চার হজম শক্তিতে প্রভাব ফেলে বলেই বাচ্চা পায়খানা না হওয়ার সমস্যায় ভুগতে থাকে। 

এসব মেজর কারণ মূলত বাচ্চা পায়খানা না হওয়ার পিছনে বিশেষ ভাবে দায়ী এর বাইরেও অনেকগুলো অন্য পরোক্ষ কারণ থাকতে পারে বাচ্চার পায়খানা না হওয়ার পেছনে যেমন, কিছু নিদ্রিষ্ট রোগ ( এনাল ফিসার, নিউরোলজিক্যাল ডিজিস ), বংশানুক্রমিক কষ্টকাঠিন্য ইত্যাদি। তবে এগুলো অনেক কম ক্ষেত্রেই পরিলক্ষিত হয়। 


So, এতক্ষণে আপনি জেনে গেলেন কোন কোন কারণে আপনার বাচ্চা কোষ্ঠকাঠিন্য কিংবা পায়খানা না হওয়ার সমস্যায় ভুগতে পারে। এবার জেনে নিন, ১,২,৩,৪ ও ৫ বছরের বাচ্চার পায়খানা না হলে করণীয় কি? কিভাবে এই সমস্যাটি অফার কম করতে পারবেন এবং আপনার বাচ্চার সুস্থ জীবন নিশ্চিত করতে পারেন? 


১,২,৩,৪ ও ৫ বছরের বাচ্চার পায়খানা না হলে করণীয় কি?

যেমনটা উপরে উল্লেখ করা হয়েছে, স্বভাবতই কিছু মেজর কারণ ১ থেকে ৫ বছরের বাচ্চার পায়খানা না হওয়ার পিছনে দায়ী। তাই এসব কারণগুলো ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করে এড়িয়ে চলতে পারলেই এই সমস্যা সমাধান অনেকাংশেই সম্ভব। 


১. ফাইবার বা আঁশ জাতীয় খাবার খাওয়ানো

বাচ্চাদের সহজে কোন বয়সের মানুষের কোষ্ঠকাঠিন্য কিংবা পায়খানা না হওয়ার সমস্যা দূর করতে অন্যতম কার্যকারী সমাধান হল ফাইবার বা আঁশ জাতীয় খাবার খাওয়া। শাকসবজি যেমন লাল শাক, কচু শাক এসব খাবার আমাদের হজম প্রক্রিয়াকে আরো সহজ করে দেয়। 

একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, শাকসবজিতে এক ধরনের সুগার থাকে যা আমাদের অন্ত্রের জন্য উপকারী ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। অর্থাৎ হজম প্রক্রিয়া সহজ হয় এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়।

তাই নিয়মিত খাইবার সমৃদ্ধ খাবার যেমন পালংশাক, লাল শাক ও বিভিন্ন সবজি খাওয়ার মাধ্যমে আপনি নিজের এবং বাচ্চার হজম শক্তিকে বৃদ্ধি করে পায়খানা না হওয়ার সমস্যার সমাধান করতে পারে।


২. দুধ বা দুগ্ধজাত খাবার খাওয়ানো

দুধ বা দুগ্ধজাত খাবার বাচ্চাদের পায়খানা নরম করতে বিশেষভাবে কার্যকরী। স্বভাবতই এক বছরের নিচ কম বয়সি বাচ্চারা মায়ের দুধ খেয়ে থাকে। এই দুধ তাদের পায়খানা নরম করতে ও পায়খানা না হওয়ার সমস্যা দুর করতে কাজ করবে। 

কিন্তু ৩ থেকে ৫ বছরের বাচ্চা যেহেতু মায়ের দুধ খেতে পায় না তাই এদেরকে গরুর দুধ খাওয়াতে পারেন। গরুর দুধ দিয়ে বিভিন্ন খাবার যেমন পনির, ক্ষীর, ছানা ইত্যাদি সঠিক পরিমানমত খাওয়ানোর মাধ্যমে আপনার বাচ্চার কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করা সম্ভব। 

তবে একটি বিষয় মনে রাখবেন, অতিরিক্ত গরুর দুধ খাওয়ানো কিন্তু পায়খানা না হওয়ার সমস্যা তৈরি করতে পারে। তাই অবশ্যই খাওয়ানোর সময় সঠিক পরিমাণে ( এক কাপ এর সামান্য বেশি-কম ) খাওয়াবেন।


৩. প্রচুর পরিমাণে পানি পান করানো

পানির আরেক নাম জীবন। আমাদের দেহের শতকরা ৮০ ভাগ শরীরবৃত্তীয় কাজে পানির প্রয়োজন আবশ্যক। তাই দেহে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি ঘাটতি নানান ধরনের সমস্যা তৈরির অন্যতম কারণ। আর এসব সমস্যা মনে একটি সমস্যা হল কোষ্ঠকাঠিন্য বা পায়খানা না হওয়া। 

বাচ্চারা সাধারণত খাবার খেয়ে ছুটাছুটি শুরু করে দেয়। পানি খাওয়ার ব্যাপারে তাদের কোনো খেয়াল বা ইচ্ছা থাকে না। এই বিষয়ে মায়েদের সচেতন হতে হবে। আপনার বাচ্চা পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি খাচ্ছে কি সেই বিষয়ে ভালোভাবে খেয়াল করতে হবে। 

খাবার খাওয়ার পরে তো অবশ্যই অন্যান্য সময়ে বাচ্চার শরীরে পর্যাপ্ত পানি নিশ্চিত করা একজন সচেতন মা হিসেবে আপনার দায়িত্ব। তাই আপনার বাচ্চার পায়খানার সমস্যা দুর করতে বা পেটের গ্যাস দুর করতে প্রচুর পরিমাণে পানি পান করান।


৪. কিসমিস ভিজিয়ে পানি সহ খাওয়ানো

কিসমিস এর উপকারিতা সম্পর্কে আমরা সকলেই জানি। এই কিসমিসের উপকারিতা দ্বিগুণ পরিমাণে বৃদ্ধি করার সম্ভব পানিতে ভিজিয়ে রাখার মাধ্যমে। পানিতে ভেজানো কিসমিস পানিসহ খাওয়ার মাধ্যমে হজম শক্তি বৃদ্ধি করা সম্ভব। 

ads

এছাড়া কিসমিস রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে, সেই সাথে রক্তশূন্যতা কমাতে পানিতে ভেজানো কিসমিস খুবই কার্যকারী ভূমিকা পালন করে।

সুতরাং বাচ্চাকে নিয়মিত পানি ভেজানো কিসমিস পানি সহ খাওয়ানোর অভ্যাস তৈরি করুন এতে করে সে পায়খানার সমস্যা সহ অন্যান্য বিভিন্ন সমস্যা থেকে সহজেই মুক্ত হয়ে যাবে।

Next Post Previous Post
2 Comments
  • Anonymous
    Anonymous 2 March 2024 at 23:38

    great article

  • sofiq
    sofiq 2 March 2024 at 23:40

    amar baccha age ei somossay chilo

Add Comment
comment url