বাচ্চাদের কি খাওয়ালে লম্বা হয়? বাচ্চাদের লম্বা হওয়ার খাবার

baccader kii khaowale lomba hoy


একটি শারীরিক গঠনকে তখনই পরিপূর্ণ শারীরিক গঠন বলা যাবে যখন সেটি লম্বা এবং স্বাভাবিক মোটা হবে। সুতরাং একটি শিশুকে স্বাস্থ্যবান ও সুন্দর গঠন পাওয়ার জন্যে তার লম্বা হওয়া বেশ জরুরী। দুই থেকে তিন বছর বয়সের পর থেকে শিশুদের বাড়ন্ত বয়সের শুরু হয়। 

এ সময় তাদের স্বাভাবিক খাবারের পাশাপাশি কিছু গুরুত্বপূর্ণ খাবার প্রদান করতে হয় যাতে করে তারা যথেষ্ট লম্বা হতে পারে এবং সুগঠিত শারীরিক গঠন পেতে পারে। আজকের আলোচনায় আপনাদের জানাতে চলেছি এমন কিছু খাবার ও পুষ্টি উপাদান সম্পর্কে যা বাচ্চাদের খাওয়ালে তাদের লম্বা হওয়ার গতি দ্বিগুণ বৃদ্ধি পাবে। 


কি খাওয়ালে বাচ্চা লম্বা হবে?

বাচ্চাদের লম্বা হওয়ার পিছনে অনেকগুলো পুষ্টি উপাদান সক্রিয়ভাবে কাজ করে এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু পুষ্টি উপাদান হল, আমিষ, শর্করা, মিনারেল, ক্যালসিয়াম, আয়রন, ভিটামিন ইত্যাদি নিউট্রিশন। 

এই অংশে আপনাদের জানানো হবে কোন খাবারের মধ্যে উপরোক্ত নিউট্রিশন গুলো বেশি পরিমাণে পাওয়া যায়। আর কোন খাবার গুলো বেশি বেশি খাওয়ার মাধ্যমে বাচ্চাদের গ্রোথ বাড়ানো সম্ভব। 


বাচ্চাদের লম্বা হওয়ার খাবার

আর্টিকেলটির এই পর্যায়ে আমরা জানাবো কোন কোন খাবার গুলো বাচ্চাদের লম্বা হওয়ার গতি ত্বরান্বিত করে। ওপরে আপনারা জেনেছেন কোন নিউট্রিশন গুলো লম্বা হওয়ার ক্ষেত্রে খুবই কার্যকারী ভূমিকা রাখে এবার আমরা জানবো কোন খাদ্য উপাদানের মধ্যে উপরোক্ত নিউট্রিশন গুলো বেশি বেশি পাওয়া যায়।

১. আমিষ সমৃদ্ধ খাবার

আমিষ জাতীয় খাদ্য দেহ গঠনে দেহের কোষ এর মধ্যে খাদ্য উৎপাদনে কাজ করে। প্রোটিন দেহের পেশী গঠনে সরাসরিভাবে কাজ করে। তাই ওজন বাড়ানো হোক কিংবা লম্বা হওয়ার ক্ষেত্রে হোক, প্রোটিন বা আমিষ এর ভূমিকা সবার আগে।

• ডিম

ডিমের রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-এ এবং ভিটামিন-ডি যা বিশেষকরে বাড়ন্ত সময়ের জন্য খুবই খুবই জরুরী। তাই আপনার শিশুর দৈহিক বৃদ্ধি জন্য ডিম নিয়মিত খাওয়াতে পারেন এছাড়া মানসিক বিকাশ, ব্রেনের বিকাশ বা ব্রেন ভালো রাখতে ডিম সর্বোচ্চ কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। 

• মুরগির মাংস

প্রোটিনের অন্যতম সেরা উৎস হল মুরগির মাংস। বাচ্চাদের দৈহিক বৃদ্ধির জন্য তার খাদ্য তালিকায় নিয়মিত রাখুন মুরগির মাংস। 

• মটরশুঁটি

মটরশুঁটি প্রোটিনের অন্যতম উৎস গবেষণায় দেখা গেছে মটরশুঁটি থেকে পাওয়া প্রোটিন দেহে ইনসুলিন ও গ্রোথ ফ্যাক্টর -১ এর মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এতে করে বাচ্চারা দ্রুত গতিতে দৈহিক বৃত্তি লাভ করে।

এছাড়া মটরশুটি আয়রন ও ভিটামিন বি এর একটি অশেষ ভান্ডার। আয়রন যা এনিমিয়া সহ বিভিন্ন রোগের বিরুদ্ধে কাজ করে ও দৈহিক বৃদ্ধির কাজে সরাসরি অংশগ্রহণ করে। তাই আপনার সন্তানের দৈহিক বৃদ্ধির জন্য তাকে নিয়মিত মটরশুটি খাওয়াবেন। 

• সামুদ্রিক স্যালমন মাছ 

সামুদ্রিক সালমন মাছে প্রচুর পরিমাণে ফ্যাট মুজুত রয়েছে। এই মাছে রয়েছে ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিড যা দেহের বিকাশ, কোষের আদর্শ গঠনে ও পেশীবহুল শরীর গঠনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। 

এছাড়া ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড বাচ্চাদের ব্রেইন এর নার্ভ সিস্টেমের কোষ গঠনে কাজ করে। এক কথায় শারীরিক ও মানসিক বিকাশে সামুদ্রিক স্যালমন মাছ সহ অন্যান্য মাছ খাওয়ানো উপযোগী সিদ্ধান্ত হবে। 


বাচ্চাদের কি খাওয়ালে লম্বা হয়?

আশা করি উপরের উল্লেখিত খাবার গুলো সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা লাভ করার পরে এবং শিশুদের দৈহিক বৃদ্ধিতে সে খাবার ও নিউট্রিশনগুলোর অবদান জানার পরে, আপনি সহজেই সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন যে আপনার বাচ্চাকে কি খাওয়ালে লম্বা হবে।

উপরে উল্লেখিত খাবার গুলো ছাড়াও আরো কিছু খাবার রয়েছে যেগুলো প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে লম্বা হওয়ার জন্যে বিশেষভাবে কাজ করে। এমন কিছু খাবার হল, দুধ, দই, সয়াবিন, ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ খাবার, গাজর, আলু, মসুর ডাল, গরুর মাংস, ইত্যাদি। 


বাচ্চা লম্বা হয় না কেন?

অনেক সময় দেখা যায় সঠিক সময় সঠিক খাবার ও পুষ্টি প্রদান করা সত্ত্বেও বাচ্চারা পর্যাপ্ত পরিমাণে লম্বা হয় না এর কারণ কি? এর জন্যে কি আলাদা কোনো খাবার বা চিকিৎসা নিতে হবে? নাকি এটা কোনো রোগ?

আসলে এর অনেকগুলো কারণ থাকতে পারে যেমন, কিছু কিছু ক্ষেত্রে বাচ্চা ধীর গতিতে বৃদ্ধি বা না বৃদ্ধির কারণ হতে পারে জেনেটিক একটি কারণ। অথবা কিছু কিছু ক্ষেত্রে এই হতে পারে হরমোন-জনিত কারণ।

এই বিষয়টি যে সব সময় খাবারের ওপর নির্ভর করবে এমনটা কিন্তু নয়। কখনো জিনগত সমস্যা কারণেও বাচ্চা বৃদ্ধি ব্যাহত হতে পারে। 

পরিশেষে বলা যায়

উপরের খাদ্য তালিকা অনুসারে যেকোনো স্বাভাবিক বাচ্চাকে নিয়মিত খাবার পরিবেশন করলে তার দৈহিক বৃদ্ধি নিশ্চিত। তাই আপনার বাচ্চার স্বাভাবিক দৈহিক বৃদ্ধির জন্য উপরের খাদ্য তালিকা অনুসারে তাকে খাবার প্রদান করতে পারেন।



Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url