বাচ্চার খাবারে অরুচি কিভাবে দূর করবেন? বাচ্চাদের খাবারে অরুচি দুর করার উপায়

বাচ্চাদের অরুচি দুর করার উপায়


সঠিক সময়ে পর্যাপ্ত পরিমাণ খাবার গ্রহণের মাধ্যমে একটি শিশুর সুস্থ ও স্বাভাবিক বেড়ে ওঠা সম্ভব। কিন্তু খাবারের প্রতি অরুচি থাকার কারণে যদি শিশু নিয়মিত খাবার গ্রহণ না করে তাহলে হয়ত তার স্বাভাবিক বেড়ে ওঠা ব্যাহত হতে পারে। 

এমনকি এতে করে শিশুর রোগ প্রতিরোধে ক্ষমতা কমে গিয়ে বিভিন্ন সম্ভাবনা থাকে। তাই একজন সচেতন অভিভাবক হিসেবে প্রতিটি মায়ের দায়িত্ব সন্তানের রুচি অরুচির প্রতি খেয়াল রাখা। 

আপনার সন্তানের খাবারের প্রতি অরুচি থাকলে কিভাবে তা দুর করে খাবারের প্রতি তার স্বাভাবিক রুচি ফিরিয়ে আনবেন সেটাই জানাবো এই প্রতিবেদনে। 


বাচ্চার খাবারের প্রতি অরুচি কেন আসে?

খাবারের প্রতি কুরুচি আসার বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে এর মধ্যে কমন কিছু কারণ হল, শরীরে ভিটামিন সি এর ঘাটতি থাকা, পেটে কৃমি জনিত সমস্যা থাকা, পেট ফাঁপা, বদ হজম, দুর্বলতা ইত্যাদি খাবারের প্রতি অনীহা সৃষ্টি করে আর এর থেকেই খাবারের প্রতি অরুচি সৃষ্টি হয়।

এর বাইরেও ভিন্ন কিছু কারণে একটি শিশু খাবারের প্রতি অরুচি জনিত সমস্যা থাকতে পারে। যেমন, কোনো অসুস্থতা, অপছন্দনীয় খাবার, দাতের সমস্যা, ভিটামিনের অভাবে মুখে ঘা,  ইত্যাদি। 



কিভাবে বাচ্চার খাবারে অরুচি দুর করা যায়?

বাচ্চাদের খাবারের অরুচি দূর করার জন্য বেশ কিছু বৈজ্ঞানিক ও সফলভাবে কার্যকরী পদ্ধতি রয়েছে। কি ফিরিয়ে আনতে পারবেন সেটা নিচে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হল। 


১. বাচ্চাদের ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ খাবার খাইয়ে

একটি শিশুর শরীরে ভিটামিন সি এর প্রয়োজনীয়তা অনেক বেশি। ভিটামিন-সি এর অভাবে বাচ্চাদের খাবারের অরুচি হওয়ার পাশাপাশি, তাদের দাতের সমস্যা সহ বিভিন্ন ধরনের শারীরিক অসুস্থতা হওয়ার সুযোগ থাকে। তাই প্রথমে অবশ্যই আপনার শিশুকে ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ান।

ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ খাবার খেলে খাবারের প্রতি হারানো রুচি ফিরে পাওয়া যায় এটি বৈজ্ঞানিকভাবে পরীক্ষিত। কমলা লেবু, আঙ্গুর, আম, মালটা, জাম্বুরা ইত্যাদি ফলে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-সি পাওয়া যায়। 



২. দুগ্ধ জাত খাবার খাওয়া

দুধ জাতীয় খাবার যেকোনো বয়সের মানুষের খাবারের রুচি বৃদ্ধিতে খুবই কার্যকারী। তাই শিশুকে দুধ জাতীয় বিভিন্ন খাবার পরিবেশন করুন। পনির, দুধের ছানা, মাখন, পায়েস, সেমাই, এসব খাবারে বিভিন্ন রুচি বর্ধক উপাদান থাকে ( জিংক, ভিটামিন ) যা কম সময়ের মধ্যে মুখে রুচি ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করে। 


৩. আনারস 

প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি ও ভিটামিন এ উৎস আনারস। আনারস থাকা ভিটামিন সি রুচি বাড়াতে সাহায্য করে। এছাড়া জ্বর এর মত শারীরিক অসুস্থ চিকিৎসকেরা বার বার আনারস খাওয়ার নির্দেশনা দেয়।

চিকিৎসক আনারস খেতে বলে কারণ মুখের ভিতরে যে ক্ষারীয় ও অরুচির পরিবেশ তৈরি হয়েছে সেটা কেটে যায়। অন্যদিকে আনারস থাকে থায়ামিন। আর থায়ামিন মুখের রুচি ফিরিয়ে আনতে সর্বক্ষণ সক্রিয়ভাবে কাজ করে। 


উপসংহার 

এসব খবার বাচ্চাদের অরুচি দুর করে খাবারের প্রতি রুচি ফিরিয়ে আনতে সক্ষম। তাই এসব খাবার নিয়মিত আপনার বাচ্চাকে খাওয়ানোর অভ্যাস করুন। মনে রাখবেন বাচ্চাকে জোর করে খাওয়ালে বেশি পুষ্টির যোগান দেওয়া যায় না। বাচ্চাকে খেতে ভালোবাসে তাকে সেটাই পরিবেশন করুন, এতে করে তার খাবারের রুচি বৃদ্ধি পাবে।  


Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url