কি খেলে বাচ্চার ওজন বাড়ে? বাচ্চাদের কি খাওয়ালে মোটা হবে?

বাচ্চাদের ওজন বাড়ানোর উপায়


বাচ্চাদের স্বাভাবিকের চেয়ে কম ওজন থাকলে আপনাকে বাচ্চার ওজন বাড়ানোর ওপর মনোযোগী হতে হবে। কেননা স্বাভাবিক এর চেয়ে কম ওজন আপনার বাচ্চার জন্য ক্ষতিকর এবং এটি বাচ্চাদের দুর্বল করে, রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। তাই আপনার বাচ্চার ওজন বাড়াবেন কিভাবে তার মোটা হওয়ার যাত্রা কিভাবে শুরু করবেন? সেই বিষয়েই আজকের আর্টিকেলে আপনার সাথে আলোচনা হবে। 


বাচ্চাদের মোটা ( স্বাস্থ্যবান ) হওয়া জরুরি কেন?

ছোটবেলা থেকেই বাচ্চাদের স্বাস্থ্যবান করে তোলা অতি আবশ্যক তাদের শরীরের ওজন কম থাকলে তারা শারীরিক দুর্বলতা সহ বিভিন্ন ধরনের সমস্যা মুখোমুখি হতে পারে। তারা স্বাস্থ্যবান হলে কিংবা মোটা তাজা হলে তাদের শরীরে এনার্জি বেড়ে যায় এবং পড়াশোনা সহ যেকোনো কাজে তারা শারীরিক ও মানসিকভাবে সক্রিয় হতে পারে। 

তাই ছোটবেলা থেকেই বাচ্চাদের স্বাস্থ্যবান কিংবা মোটা হিসেবে গড়ে তোলা প্রয়োজন। এখানে মোটা বলতে স্থূলতাকে বোঝানো হয় নি বরং মোটা বলতে স্বাস্থ্যবান হওয়াকে বোঝানো হয়েছে।


বাচ্চারা কিভাবে মোটা বা স্বাস্থ্যবান হবে? 

বাচ্চাদের মোটা হওয়ার প্রক্রিয়া অনেকটাই নির্ভর করছে তাদের খাদ্যাভাস এর ওপর। প্রোটিন ও বিভিন্ন নিউট্রিশন সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার মাধ্যমে বাচ্চারা মোটা হতে পারবে। বাচ্চাদের চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়ানোর মাধ্যমে ওয়েট গেইন করা সম্ভব। 


কি খেলে বাচ্চার ওজন বাড়ে?

মূলত যেসব খাবার দেহ গঠনে সাথে সরাসরি ভাবে যুক্ত সেই খাদ্য ও পুষ্টি উপাদান গুলো ওজন বাড়াতে সাহায্য করে যেমন শর্করা, আমিষ বা প্রোটিন, চর্বি বা ফ্যাট ইত্যাদি। এসব পুষ্টি উপাদান ছাড়াও আরো বেশ কিছু পুষ্টি উপাদান সমৃদ্ধ খাবার ওজন বাড়াতে সাহায্য করে যেগুলো সম্পর্কে নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো। 


১. ডেইরি প্রোডাক্ট

ওজন গেইন করার পূর্বশর্ত হলো ফ্যাট বা চর্বি জাতীয় খাবার খাওয়া। দুধ বা দুগ্ধজাত খাবার চর্বির অন্যতম প্রধান উৎস। ওজন বাড়ানোর জন্য নিয়মিত খেতে হবে এমন কিছু ডেইরি প্রোডাক্ট হলো দুধ, পনির,ঘি, দই ইত্যাদি।

২. প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার

আমিষ বা প্রোটিন জাতীয় খাবার ছাড়া দেহ গঠন কল্পনা করা যায় না। আমাদের দেহের প্রয়োজনীয় সকল অ্যামিনো এসিড তৈরিতে একমাত্র আমিষ সক্রিয়ভাবে কাজ করে। তাই ওজন বাড়ানোর জন্যে আমিষ এর বিকল্প খুঁজে পাওয়া সম্ভব না। 

৩. স্বাস্থ্যকর ফ্যাট 

ফ্যাট বা চর্বি জাতীয় খাবার এর নাম শুনলেই অধিকাংশ পাঠকই ভয় পেয়ে যায়। তারা ভাবে চর্বি দেহকে স্থূলতার পর্যায়ে নিয়ে যায় এবং হৃদরোগ এর সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়। 

তবে এমনও কিছু চর্বি রয়েছে যা স্বাস্থ্য এর জন্য উপকারী এদের হেলদি ফ্যাট বলা হয়। যেমন, বাদাম এর ফ্যাট, নারিকেলের ফ্যাট, অলিভ অয়েল ইত্যাদি। 

৪. পুষ্টিকর ফল ও সবজি

ফল ও সবজি নিয়মিত খাওয়া ছাড়া শরীরের উন্নতি করা কিংবা সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হওয়ার সম্ভব না। বিভিন্ন সিজনাল সবজি ও সিজনাল ফল সামান্য পরিমাণে খাওয়ার মাধ্যমে আমাদের শরীরে পুষ্টির ঘাটতি থেকে যায়। 

তাই শরীরে পুষ্টির ঘাটতি পূরণ করে সুঠাম ও সুস্বাস্থ্যের অধিকারী সন্তানের জন্য নিয়মিত পুষ্টিকর ফল ও সবজি আজ থেকেই বাচ্চাদের খাওয়ানো শুরু করুন।


বাচ্চাদের খাওয়ানোর রুটিন

একেক বয়সী বাচ্চার জন্যে খাওয়ানোর রুটিন একেক রকমের হয়ে থাকে। ছোট বাচ্চাদের খাওয়ানোর রুটিং এক রকমের আবার ৩-৪ বয়সী বাচ্চাদের খাওয়ানোর রাইটিং একেক রকমের। মূলত বাচ্চাদের সকাল, দুপুর ও রাত এই তিন বেলা ভারী বা হালকা ভারী খাবার খাওয়াতে হবে। এর বাইরে মাঝে মাঝে সুপ বা হালকা স্নাকস খাওয়াতে পারেন। 


পরিশেষে বলা যায়

বাচ্চাদের নিয়মিত খাবার ও পুষ্টির ওপরই বাচ্চাদের পুষ্টি নির্ভর করছে। প্রয়োজনীয় পুষ্টি সম্মত খাবার সঠিক সময়ে প্রদানের মাধ্যমেই বাচ্চাদের ওজন বাড়িয়ে তাদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা সম্ভব। 

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url