বাচ্চাদের পুষ্টিকর খাবারের তালিকা? কোন খাবার গুলো বাচ্চাদের পুষ্টির চাহিদা পূরণ করে?
একজন মানুষের দৈহিক বৃদ্ধি ও শক্তি উৎপাদনের জন্য যেমন প্রতিনিয়ত পুষ্টিকর খাবারের প্রয়োজন হয় তেমনিভাবে একটি শিশুরও দৈহিক ও মানসিক বৃদ্ধির জন্যে প্রতিনিয়ত পুষ্টিকর খাবারের প্রয়োজন। আর তাই এই পোষ্টের মূল আলোচনার বিষয় হলো শিশুদের পুষ্টিকর খাবার তালিকা।
আপনি যদি আপনার শিশুর জন্ম দৈনিক পুষ্টিকর খাবারের তালিকা সম্পর্কে ধারণা নিতে চান তাহলে সম্পূর্ণ আর্টিকেল আপনাকে পরিপূর্নরূপে সহায়তা করবে।
শিশুদের প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান
একটি শিশু সারা দিন যত ভালোমানের ও পরিমাণের খাবার গ্রহণ করুক না কেন তার প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান এর পরিপূর্ণ যোগান না হলে তার দৈহিক ও মানসিক বৃদ্ধিতে ব্যাঘাত করতে পারে। তাই শিশুর খাবার তালিকা সম্পর্কে জানার আগে তার প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান গুলো সম্পর্কে আইডিয়া নেওয়া জরুরি।
যেমন একটি শিশুর দৈহিক ও মানসিক বৃদ্ধির জন্য প্রোটিন জাতীয় খাবার আবশ্যক। তাই প্রোটিন জাতীয় খাবারের মাধ্যমে তার দৈনিক প্রোটিন বা আমিষের চাহিদা পূরণ করতে হবে।
তেমনিভাবে, শর্করা, ভিটামিন, ক্যালরি, গ্লুকোজ, সুক্রোজ, আয়োডিন, ইত্যাদি সব গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান বিভিন্ন ধরনের খাবারের মাধ্যমে শিশুদের যোগান দিতে হবে।
বাচ্চাদের পুষ্টিকর খাবারে তালিকা
বাচ্চাদের সর্বোচ্চ পুষ্টির যোগান দেওয়ার জন্যে সুষম খাদ্যের কোনো বিকল্প নেই। মানবদেহের জন্যে ৬ টি গুরুত্বপূর্ন পুষ্টি উপাদান , শর্করা, আমিষ, খনিজ লবণ, স্নেহ, ভিটামিন ও পানি সবগুলো একসাথে যেসব খাবারে পাওয়া যায় সেই খাবার গুলোকে বলা হয় সুষম খাবার।
বাচ্চাদের শারীরিক বৃদ্ধি ও প্রয়োজনীয় পুষ্টির চাহিদা পূরণে সুষম খাবার খাদ্য তালিকায় থাকা আবশ্যক। সুষম খাদ্য সংবলিত বাচ্চাদের খাবারের তালিকা এই আর্টিকেল মূল আলোচ্য বিষয়, তাই নিচে বাচ্চাদের জন্যে সেরা সুষম ও সর্বাধিক পুষ্টিকর খাবারের তালিকা প্রকাশ করা হল।
১. খিচুড়ি ও ডাল
বাচ্চাদের জন্যে সবচেয়ে পুষ্টিকর ও সুষম একটি খাবার। এই খাবারে প্রায় সকল ধরনের পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায় যা, একটি বাড়ন্ত বাচ্চা জন্যে অতি প্রয়োজনীয় একটি খাবার খিচুড়ি।
যেহেতু খিচুড়িতে মুসুর ডাল, পুঁইশাক, আলু সহ আরো অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার থাকে তাই এই খাবারে আমিষ, শর্করা, ভিটামিন সহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ন পুষ্টি উপাদান থাকে। যা একটি বাচ্চার জন্যে অতি গুরুত্বপূর্ন।
২. ডিম ( সিদ্ধ বা রান্না )
একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষকে শরীর গঠন এবং আমিষ ও পুষ্টি উপাদান এর চাহিদা পূরণ করতে ডিম খাওয়ার পরামর্শ দেন রেজিস্টার্ড ডাক্তারগণ। তেমনিভাবে একটি বাচ্চার শারীরিক বৃদ্ধি ও আমিষের ঘাটতি পূরণে ডিম খাওয়া কার্যকারী।
৩. মুরগির কলিজা
মুরগির কলিজা আয়রন, ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন এর অন্যতম উৎস। বাচ্চাদের বাচ্চাদের মস্তিষ্ক বিকাশে মুরগির কলিজা খাওয়াতে হবে।
৪. সবজি
একটি বাড়ন্ত শিশুর শারীরিক বৃদ্ধির পাশাপাশি পরিপুর্ণ বিকাশের জন্যে সবজি জাতীয় খাদ্যের কোনো বিকল্প নেই। সাক ও সবজিতে থাকা ভিটামিন, ও অতি গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান একটি বাড়ন্ত শিশুর জন্যে খুবই উপকারী।
৫. ছোলা
ছোলা একটি মাল্টিভিটামিন সমৃদ্ধ খাবার এতে মলিবেডনাম ও ম্যাঙ্গানিজ প্রচুর পরিমাণে থাকে। এছাড়া ছোলা তে থাকে আয়রন, ফসফরাস ও আমিষ সহ অতি প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান।
ছোলা ডাল জাতীয় উপাদান হওয়ায় এই খাদ্য উপাদান মানবদেহে প্রচুর পরিমাণে শক্তি উৎপন্ন করতে সক্ষম। তাই রান্না করা ছোলা বাড়ন্ত বাচ্চাদের নিয়মিত খাবারের তালিকায় থাকা অতি প্রয়োজনীয়।
৬. রুটি
প্রতিদিন নাস্তার জন্য রুটি একটি আদর্শ খাবার। গমের রুটিতে থাকা ভিটামিন ই ও ভিটামিন বি এর প্রতিটি উপাদান বাচ্চাদের ভিটামিন জনিত বিভিন্ন রোগ থেকে দূরে রাখে।
গম বা চালের রুটি থাকে প্রচুর পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট ও ফাইবার ( আঁশ ) যা দেহে শক্তি উৎপন্ন করে এবং সুঠাম দেহ গঠনে সহায়তা করে। তাই সকলের নাস্তায় নিয়মিত রুটি খাওয়া ভালো।
৭. মাছ
প্রচুর পরিমাণে মানুষের উৎস হল মাছ মাছ আমাদের শরীরে দৈনিক আমিষের চাহিদা সহজে পূরণ করতে পারে। মাঝে বিদ্যমান পুষ্টি উপাদান গুলো মস্তিষ্কের জন্য খুবই উপকারী। নিয়মিত মাছ খাওয়ার মাধ্যমে ব্রেন ভালো রাখা সম্ভব এবং স্মৃতি শক্তি বৃদ্ধি করাও সম্ভব।
পরিশেষে বলা যায়
বাচ্চাদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিতে বা ব্রেন ভালো রাখতে বা লম্বা হওয়ার জন্যে পুষ্টিকর খাবারের কোনো বিকল্প নেই। তাই উপরে উল্লেখিত বাচ্চাদের পুষ্টিকর খাবারে তালিকা থেকে নিয়মিত আপনার সন্তানকে পুষ্টিকর খাবার প্রদান করুন। এতে করে সুস্থ ও সুন্দর ভবিষ্যতের পথ অনেকটাই সুগম হবে।
